খুবিতে ‘ক্লাইমেট জার্নালিজম এন্ড এথিক্যাল এআই ইন নিউজরুম’ শীর্ষক ফেলোশিপের সমাপনী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের ১৫ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দৃক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ছয় মাস মেয়াদি ‘ক্লাইমেট জার্নালিজম এন্ড এথিক্যাল এআই ইন নিউজরুম’ ফেলোশিপ-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। এ ফেলোশিপে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহার বিষয়ে হাতে-কলমে কাজ করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাজ ও অর্জন তুলে ধরতে ১৪ অক্টোবর (বুধবার) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় প্রকল্পের প্রদর্শনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।
বিকাল ৪.৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে এ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, পদ্মার এপারে বিশাল জনবসতি থাকলেও এ অঞ্চল বরাবরই অবহেলিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে এ অঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এবং মিঠাপানির প্রবাহ কমে গেছে।
তিনি খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ করে দিতে এ ধরনের ফেলোশিপ আয়োজন করায় দৃক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনুর রশীদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা গল্প উঠে আসে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সাংবাদিকতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৃকের প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আজ আমরা ভিন্ন এক খুলনাকে দেখতে পাচ্ছি। অথচ একটা সময় এ অঞ্চলের চিত্র ছিল ভিন্ন। ফেলোরা কেবল সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁদের কাজে মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সেই বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মনের বিকল্প হতে পারে না, বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
এমসিজে ডিসিপ্লিনের প্রধান মোঃ মাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শামীম হাসান। ফেলোদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন।
অনুষ্ঠানে এমসিজে ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফেলো এবং দৃক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।