সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কারের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষা ও পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বারোপ

খুবির আইন ডিসিপ্লিনে জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আজ ২২ জুলাই (বুধবার) "Constitutional and Legal Reforms as Guarantees of Non-Recurrence in Transitional Justice" শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে সকাল ১০.৩০ মিনিটে সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান পুনম চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নাসিফ আহসান। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ওএইচসিএইচআর বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেমিনারের কী-নোট স্পিকার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশাল সম্ভাবনার জায়গা। সেই সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে চব্বিশের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর। দেশে যখনই কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখনই তরুণরা প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ সঠিক পথের দিকে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। দেশের নাগরিকরাই সকল ক্ষমতার উৎস। তাদের কাছেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য, লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ। তিনি বলেন, জাতিগঠনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখে। অঙ্ফোর্ড, হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিজ নিজ জাতিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই মুখ্য দায়িত্ব পালন করতে হবে, যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে দেখা গেছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতীতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের বাস্তবতার সমন্বয়ে কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সেমিনারে "Guarantees of Non-Recurrence in Transitional Justice in Bangladesh" শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ও অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি "Corruption and Anti-corruption in Bangladesh: Opportunities and Challenges of Enduring Legal and Institutional Change" বিষয়ে আলোচনা করেন।
অপর কী-নোট সেশনে "Preparing the Legal Framework for National Healing" শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য, লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ।
সেমিনারের প্রথম সেশনে "International & Comparative Standards on Non-Recurrence" বিষয়ে আলোচনা করেন ওএইচসিএইচআর বাংলাদেশের সহকারী মানবাধিকার কর্মকর্তা সাইমা করিম শানন। এতে দক্ষিণ আফ্রিকা, নেপাল, কলম্বিয়া ও তিউনিসিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে ট্রানজিশনাল জাস্টিসে পুনরাবৃত্তি রোধে জাতিসংঘের মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে "Youth, Justice and Institutional Reform" বিষয়ক ইন্টারঅ্যাকটিভ স্টুডেন্ট ডায়ালগে শিক্ষার্থীরা বিচারব্যবস্থা, সাংবিধানিক সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। এ অধিবেশন পরিচালনা করেন আইন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক এহসান মাজিদ মুস্তাফা। পরে সমাপনী অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের আলোচনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সৌরভ ঘোষ ও সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন, কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলসমূহের ডিন, ডিসিপ্লিনের প্রধানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।