খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও কোলাবরেশনে আগ্রহী অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও কোলাবরেশনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন। ২১ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এর সাথে কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানায়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন অস্ট্রেলিয়ান ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনের কমিশনার মেঘা গুপ্ত এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর (ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট) মোস্তাফিজুর রহমান।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, যৌথ গবেষণা, কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে খুলনা অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিকীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক কোলাবরেশন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ইরাসমাস মুন্ডাস ও সাকুরা সায়েন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান স্কিল-বেজড কার্যক্রম এবং পাইকগাছাস্থ অফসোর ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে গৃহীত পরিকল্পনার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সুন্দরবনের নিকটবর্তী এ ক্যাম্পাসে কোস্টাল ইকোসিস্টেমভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। উপকূলীয় অঞ্চল, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ন্যাট-টেস্ট সাইট চালুর বিষয়টি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
এ সময় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, সুন্দরবনের নিকটবর্তী হওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস এন্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেমস (আইআইএসএসসিই)-এর মাধ্যমে উপকূলকেন্দ্রিক বিশ্বমানের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তিনি যৌথ গবেষণা ও ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপাচার্য প্রতিনিধি দলের সদস্যদের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্টসহ স্মারক উপহার দেন। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকেও উপাচার্যকে স্মারক উপহার প্রদান করা হয়।
সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন, রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম, দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ এনামুল কবীর, আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ সালাউদ্দীন।