খুবির ফার্মেসী ডিসিপ্লিনে হিট সাব-প্রকল্পের ইনসেপশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী ডিসিপ্লিনে পরিচালিত ‘ক্রিয়েশন অব অ্যান ইন্টারেক্টিভ এডুকেশনাল সেটিং টু জেনারেট হাই-ক্যালিবার ফার্মাসিস্টস ক্যাপাবল অব অ্যাড্রেসিং দ্য চ্যালেঞ্জেস অব দ্য টুয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি’ শীর্ষক হিট সাব-প্রকল্পের ইনসেপশন কর্মশালা আজ ৫ মে (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে ফার্মেসী শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও গবেষণানির্ভর করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের হিট সাব-প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে শুরু থেকেই সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর মনিটরিং থাকতে হবে, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের শিক্ষা, গবেষণা ও ল্যাবভিত্তিক সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং মানসম্মত ওষুধ তার অন্যতম প্রধান উপাদান। বর্তমান বিশ্বে ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা শুধু ওষুধ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায়ও বিস্তৃত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছে। এই অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হলে দক্ষ, নৈতিক ও প্রযুক্তি-সচেতন ফার্মাসিস্ট তৈরি অপরিহার্য। এ প্রকল্প সেই মানবসম্পদ গঠনে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ফার্মেসী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ল্যাব সুবিধা, ইন্টারেক্টিভ লার্নিং পদ্ধতি এবং গবেষণামুখী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এতে করে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের প্রধান (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর মো. জামিল আহমেদ শিল্পীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এএসপিএম প্রফেসর ড. মো. ইকবাল আহমেদ। তিনি সাব-প্রকল্পের সার্বিক পরিচিতি তুলে ধরেন। টেকনিক্যাল সেশনে সাব-প্রকল্পের লক্ষ্য, পদ্ধতি, কার্যক্রম, আর্থিক পরিকল্পনা ও প্রত্যাশিত ফলাফল উপস্থাপন করেন এসপিএম প্রফেসর ড. উৎপল কুমার কর্মকার।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সেশনটি সঞ্চালনা করেন এএসপিএম প্রফেসর ড. নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশল, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করেন।
হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন এন্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) সাব-প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।