খুবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো চালু দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। পেশাগত মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন থেকে জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো ‘দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা’ গ্রহণ করা হয়েছে।
১৮ এপ্রিল (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসসি)-এর উদ্যোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় লিখিত, পদ সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক এবং কম্পিউটার টাইপিং-এই তিন ধাপে প্রার্থীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে পদোন্নতি বা আপগ্রেডেশন দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি মূলত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়ে আসছে। সে প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হবে এবং নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে তারা আরও মনোযোগী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পরীক্ষা চলাকালে হল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। এ সময় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান ও আইকিউএসসির পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানসহ অতিরিক্ত পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ। আমরা চাই, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দেখাক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিরা যথাযথ স্বীকৃতি পাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উচ্চশিক্ষা খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধিসহ সামগ্রিকভাবে সেবার মানও উন্নত হবে।