খুবির অবশিষ্ট সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, খাল অবমুক্তকরণ ও নতুন স্লুইস গেট-কালভার্ট তৈরিতে গুরুত্বারোপ

‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও গল্লামারী ব্রিজ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করে যানজট নিরসনে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা আজ ০৫ ফেব্রুয়ারি (বুুধবার) বেলা ১১.৩০ মিনিটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার বিভিন্ন সংস্থা, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
সভায় উপাচার্য বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে তা এ অঞ্চলের জন্য সুখকর হবে না। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সংকট দূর করতে খুলনার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরসমূহকে সচেষ্ট থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও গল্লামারী ব্রিজ নির্মাণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পেছনে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অরক্ষিত থাকছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুটি খালের অংশ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ময়ূর নদীতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে স্থাপনা গড়ে ওঠায় বর্ষা মৌসুমে ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে হলগুলোতে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়। এটি নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, গল্লামারীতে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে ময়ূর নদীর উভয় পাড়ে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সাধারণ লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যার কারণে সেতু নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ লোকজনের ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এমতাবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এটা নিয়ে যথাসম্ভব শীঘ্রই একটি সমাধানে আসা উচিত।
সভায় সকল পক্ষের আলোচনা শেষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান দুইটি খালের প্রবেশপথ উন্মুক্ত রাখার জন্য পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় স্লুইস গেট নির্মাণসহ অস্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া গল্লামারী ব্রিজের স্টিলের সুপারস্ট্রাকচারের কাজ চলতি মাসের শেষে কিংবা মার্চের প্রথম দিকে শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং ঠিকাদার তথ্য প্রদান করেন। এটি শেষ করে স্ট্রাকচার ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জুলাই মাসে ব্রিজের কাজ শেষ হবে বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
উপাচার্য ছাড়াও এ সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপিআইসির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ খসরুল আলম, সদস্য-সচিব প্রফেসর ড. মুন্নুজাহান আরা, স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী সাইফুল ইসলাম, নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. হাসানুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুজ্জামান, শাখা প্রধান (প্রশাসন) ও নিরাপত্তা তত্ত্বাধায়ক আবদুর রহমান ও এস্টেট শাখা প্রধান এস এম মোহাম্মদ আলী এবং খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন, বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা তান্নি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ শাওন, ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিঃ দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুর রহমান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী (চঃ দাঃ) মোরতোজা আল মামুন, সড়ক ও জনপদ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া, খুলনা সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সাঈদ রহমান, বটিয়াঘাটা উপজেলার সার্ভেয়ার মোঃ মাহতাফ হোসাইন, সড়ক বিভাগের সার্ভেয়ার মোঃ সাদ্দাম হোসেন ইমন, কেএমপির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ জহিরুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বটিয়াঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ ইব্রাহীম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনডিই লিমিটেড এর পরিচালক প্রকৌশলী মবিনুল ইসলাম, প্রকল্প ব্যবস্থাপক অপূর্ব কুমার বিশ্বাস, প্রকৌশলী মোঃ সেলিম রেজা, প্রকৌশলী মোঃ আবু সাঈদ উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান করেন।