আগামীকাল ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

শিক্ষা কার্যক্রমের ২৯ বছর পূর্তি 

আগামীকাল ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

আগামীকাল ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের নিরলস প্রচেষ্টা ও দীর্ঘদিনের আন্দোলন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুন মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাশ হয়, যা গেজেট আকারে প্রকাশ হয় ওই বছর ৩১ জুলাই। এর পর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪ টি ডিসিপ্লি¬নে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাশ শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। ২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয় প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এরই ধারাবাহিকতায় সেই থেকে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমের ২৯ বছর পূর্ণ করলো।

প্রতিষ্ঠাকালের দিক থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নবম। মহানগরী খুলনা থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন ময়ূর নদীর পাশে এক মনোরম পরিবেশে গল্ল¬ামারীতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। তবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকাটি ছিলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এক বধ্যভূমি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা, চারুকলাসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের পরই ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়।  

বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি স্কুল (অনুষদ) রয়েছে। এখানে মোট ২৯টি ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, এম ফিল এবং পিএইচডি প্রদান করা হয়। 

স্কুলগুলোর মধ্যে কলা ও মানবিক স্কুলের আওতায় রয়েছে ইংরেজি, বাংলা এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিন। আইন স্কুলের আওতায় রয়েছে আইন ডিসিপ্লিন। জীব বিজ্ঞান স্কুলের আওতায় রয়েছে এগ্রোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি, ফার্মেসি ও সয়েল ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লি¬ন।  ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের আওতায় রয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিন। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের আওতায় রয়েছে আর্কিটেকচার, আরবান এন্ড রুরাল প্লানিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান এবং পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন। সমাজ বিজ্ঞান স্কুলের আওতায় আছে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লি¬ন।  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা স্কুলের আওতায় তিনটি ডিসিপ্লিন চালু রয়েছে, এগুলো হলো ড্রইং এন্ড পেইন্টিং, প্রিন্টমেকিং ও ভাষ্কর্য ডিসিপ্লিন। শিক্ষা স্কুলের অধীন রয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। গত শিক্ষাবছর থেকে শিক্ষায় চার বছর মেয়াদী অনার্স  কোর্স চালু করা হয়েছে। এছাড়া এর আগেই মাস্টার অব এডুকেশন (এমএড) এবং পোস্টগ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন(পিজিডিএড) প্রোগ্রাম চালু করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দি সুন্দরবনস (সিআইএসএস) কে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস এন্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই) এ রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়া রিসার্চ সেল, মডার্ণ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণার মান বিশ্বমান অর্জনে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং এন্ড লার্নিং (সিইটিএল) এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৫শত। ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে প্রায় সাত হাজার। এছাড়া কর্মকর্তা রয়েছেন ৩শতাধিক এবং কর্মচারি রয়েছে প্রায় ৩শত। শিক্ষাকার্যক্রমের গত ২৯ বছরে ২৫ টি ব্যাচে থেকে উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েট সংখ্যা ১১ সহ¯্রাধিক। যারা দেশে-বিদেশে দক্ষতা, সুনাম ও সাফল্যের সাথে নানা পেশায় কাজ করছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই পিএইচডি ডিগ্রিধারী। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিশেষ করে নবীন শিক্ষকবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ, অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে উল্লে¬খযোগ্য সংখ্যায় স্কলারশীপ পাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি সংস্থার গবেষণা সহায়তাও বাড়ছে। শিক্ষা ও গবেষণা কর্মকা-ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও উন্নত বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার বিশেষজ্ঞগণ, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়, নেপালের কেআইএএস বিশ্ববিদ্যালয়, সারওয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের মেকানিকাল বিভাগ মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (এলআইপিআই) এর বায়োমেটিরিয়ালস সেন্টার এবং  জার্মানির স্টুটগার্টস ইউনিভার্সিটির সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটি ও লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির সাথে যৌথ গবেষণা প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর। আন্তঃমহাদেশীয় একটি গবেষণা প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশে নেতৃত্ব দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ সুবিধার্থে ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল অফিস চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীত জ্ঞান যাতে বাস্তবে কাজে লাগানো যায় এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে কলামে প্রশিক্ষণ হয় সে জন্য বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের রাইঙ্গামারি গ্রামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি ভিলেজ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে কার্যক্রম চলছে। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে ৩টি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবন, পাঁচটি আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য ৫টি বাসভবন, অগ্রণী ব্যাংক ভবন, ডাকঘর ও মসজিদ। ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের জ্ঞান সহায়তায় রয়েছে সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন । এছাড়া চলতি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উর্দ্ধমুখী (৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের পার্শ্বমুখী (১ম-৬ষ্ঠ তলা) ও উর্দ্ধমুখী (৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত গেস্ট হাউজের পার্শ্ব এবং উর্ধ্বমূখী, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগার ভবনে উর্ধ্ব ও পার্শ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রীয় মসজিদের অবশিষ্ট অংশের নির্মাণ কাজ এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনের উর্ধ্বমুখি সম্প্রসারণ নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় শীঘ্রই সাত তলা আইইআর ভবন ও মেডিকেল সেন্টারের নির্মাণ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, জিমনেসিয়াম এবং সুউচ্চ এবং সর্ববৃহৎ আয়তনের ১০ তলা জয়বাংলা একাডেমিক ভবন, ১১ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনের নির্মাণ কাজ পর্যায়ক্রমে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

দেশের তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার বিকাশে স্থানীয় সম্পদ আহরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন জনসম্পদ সৃষ্টি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে নেয়া এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার কাজ এগিয়ে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা সাফ্যল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে অগ্রসর হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। 

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে উপাচার্যের শুভেচ্ছা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রাক্কালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান দেশবাসীসহ খুলনার সর্বস্তরের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস প্রকৃতঅর্থে কার্যক্রম মূল্যায়ণের দিন। আমাদেরকে অতীতের অভিজ্ঞতায় বর্তমানের প্রচেষ্টায় আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি কোয়ালিটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির দিকে জোর দিয়েছি। চলতি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০২২ সালের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যমত শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণাঙ্গরূপ পরিগ্রহ করবে। তিনি আরও বলেন দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দিক-নির্দেশনা দিতে হবে- এ বিষয়টি ধারণ করেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অভীষ্ট্য লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।  

তিনি নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একনিষ্ঠ ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন ধারাবাহিক সাফল্য অক্ষুণœ রেখে শিক্ষাকার্যক্রমের ২৯ বছর পূর্তি নিঃসন্দেহে দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ অর্জন ও গৌরবের বিষয়। এই সময়ে শিক্ষা গবেষণাসহ বিভিন্ন দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সুদৃঢ় ভিত্তি রচিত হয়েছে তা আগামী দিনের সাফল্যের সোপান বেয়ে সামনে এগিয়ে যেতে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সাম্প্রতিক বছরসমূহের (৩ বছর) প্রধান অর্জনসমূহ:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় অনুমোদনক্রমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৮৮.৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রাপ্তি যা সংশোধিত প্রকল্প আকারে ৩৩৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। 

(১) আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে স্থান লাভ। দেশের মধ্যে উদ্ভাবনীতে প্রথম ও গবেষণায় দ্বিতীয় স্থান লাভ।

(২) প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার : ২০১৭ সালে ৬ জন শিক্ষার্থীর প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক লাভ। ২০১৮ সালের প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীতদের নাম শীঘ্রই পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।   

(৩)   সমন্বিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার আয়োজন এবং ১ জানুয়ারি থেকে সকল ডিসিপ্লিনে ক্লাস শুরু। 

(৪)   বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিসিপ্লিনের কারিকুলাম যুগোপযোগীকরণ।

(৫)    বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবলের সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে প্রেরণ।

(৬) আইসিটি সেল এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় অটোমেশন  পদ্বতি চালুকরণ ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ।

(৭) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়, নেপালের কেআইএএস বিশ্ববিদ্যালয়, সারওয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের মেকানিকাল বিভাগ মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (এলআইপিআই) এর বায়োমেটিরিয়ালস সেন্টার এবং  জার্মানির স্টুটগার্টস ইউনিভার্সিটির সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত।

(৮) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটি ও লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির  সাথে যৌথ গবেষণা প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর।

(৯) আন্তঃমহাদেশীয় একটি গবেষণা প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশে নেতৃত্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

(১০) এফএও, ইউএসডিএ, বিএফডি, সিইউ, এসইউএসটি এবং কেইউ এর ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজী ডিসিপ্লিন এর তত্ত্বাবধানে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ফরেস্ট ইনভেনটরি ম্যানুয়াল প্রস্তুতকরণ।

(১১) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দি সুন্দরবনস (সিআইএসএস) কে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস এন্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই)  হিসেবে রূপান্তরের অনুমোদন  লাভ। 

(১২) বায়োকম্পোজিটস এ্যান্ড ন্যানোকম্পোজিটস বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

(১৩) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন কোর্স অন্তর্ভূক্তির বিষয় ওয়াটার এইড ও খুবির স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্মাক্ষরিত।

(১৪) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল এর উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ।

(১৫) ২০১৮ সালে ¯œাতক সম্মান পর্যায়ে ১২০৫ জন, ¯œাতকোত্তর ৬৪৮ জন এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি (সমমান) তে ০৩ জন ছাত্র-ছাত্রীর ডিগ্রি প্রদান।

(১৬) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত।

(১৭) ন্যাশনাল ই-জিপি পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া চালুকরণ। 

(১৮) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুল কর্তৃক থ্রি মিনিট থিসিস প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের উক্ত প্রতিযোগিতার পর্যবেক্ষণ, বিজয়ীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ।  

(১৯) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম সয়েল আর্কাইভ স্থাপিত।

(২০) চারুকলা ইনস্টিটিউটকে স্কুলে রূপান্তরকরণ।

(২১) দেশে এই প্রথম কৃষি ফসলের বর্জ্য দিয়ে পরিবেশ বান্ধব পার্টিকেল বোর্ড তৈরি। পেটেন্ট প্রাপ্তির আবেদন।

(২২) ইন্টারন্যাশনাল অফিস স্থাপন।

(২৩) লিগাল সেল প্রতিষ্ঠা।

(২৪) সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরকরণ।

(২৫)  ইসিই ডিসিপ্লিন কর্তৃক সফলতার সাথে ড্রোন উড্ডয়ন এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রোন তৈরিতে সাফল্য অর্জন।

(২৬) সাম্প্রতিক বছরে নতুন ৮টি বাস ক্রয় এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ডুমুরিয়া, ফকিরহাটের কাটাখালী এবং ফুলতলা পর্যন্ত রুট সম্প্রসারণ।

(২৭) পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব সীমানার দীর্ঘকাল ধরে অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। 

(২৮) বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর সীমানায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ।