খুবির ফউটে ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে হেকেপ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিতকরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত


Khulna University Photo -3.doc

শিক্ষায় সচেতনতা ও প্রসার বেড়েছে, দরকার গুণগতমান বৃদ্ধি
দেশে খাদ্য ও অর্থের অভাব নেই, দরকার সক্ষমতা বৃদ্ধির: ইউজিসি চেয়ারম্যান

# তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে

# বোমা মেরে কখনও ইসলাম কায়েম হয়নি, ইসলাম কায়েম হয়েছে শান্তির আহবানে

# ইউজিসি নতুন নতুন উদ্ভাবনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিল্পের যৌথ গবেষণা সহায়তার সবিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে

আজ ১৩ এপ্রিল ২০১৭ খ্রি. তারিখ সকাল ১০ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) ডিভেলপমেন্ট এন্ড কমার্সিয়ালাইজেশন অব এনভায়রনমেন্টাল ফ্রেন্ডলি বায়োকম্পোজিটস এন্ড বায়ো-ফুয়েল ফোরাম এগ্রিকালচারাল ওয়েস্টস টু মিট দ্য চ্যালেঞ্জেস অব টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান তাঁর সারগর্ভ বক্তৃতায় বলেন, একাবিংশ শতাব্দী হচ্ছে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনের শতাব্দী। আমাদের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই এখন তরুণ, যুবক এটা বড় সম্পদ। তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে সুযোগ করে দিতে হবে। দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, অর্থের অভাব নেই; আমাদের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। সক্ষমতা বাড়াতে বিশাল মানব সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। তাই নতুন নতুন উদ্ভাবনা, সৃজনশীলতা ও দিক-নির্দেশনা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঘন্টাধিককালের বক্তৃতায় তিনি দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা প্রেক্ষাপট, তথ্য-তত্ত্ব ও ইতিহাসের মূল্যবান দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন সপ্তম শতাব্দী থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত হাজার বছর মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে সারা দুনিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছিলো জ্ঞান ও সভ্যতার উৎসভূমি। আজ সে অবস্থা নেই। তেল সম্পদ পেয়ে তারা ভোগ বিলাসে নজর দিয়েছিলো কিন্তু শিক্ষা-গবেষণা বিজ্ঞান চর্চায় বিমুখতা কী সর্বনাশা অবস্থায় উপনীত করেছে তা আজ তারা উপলব্ধি করছে। এক সময়ের অন্ধকার ইউরোপ-আমেরিকা আজ কেবল জ্ঞান-গবেষণা চর্চা করে, শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন বোমা মেরে কখনও ইসলাম কায়েম হয়নি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তির আহবানেই সমৃদ্ধ হয়েছে ইসলাম। আরব দেশগুলোর তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিলো অদূরদর্শী। কারণ শুধুমাত্র একটি পণ্যের উপর নির্ভরশীল একমুখি অর্থনীতি যেকোনো মুহূর্তে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আজ সে অবস্থার সম্মুখীন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ এক সময় শেষ হয়ে যাবে অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নানামুখি চাহিদা বাড়ছে। এই অসীম প্রয়োজন মেটাতে প্রয়োজন নতুন নতুন উদ্ভাবনা, প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা। আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানী থেকে শুরু করে নানামুখি পণ্য প্রয়োজন। প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে বন প্রয়োজন। আবার মানুষের চাহিদার জন্য কাঠ প্রয়োজন। তাই এর বিকল্প ভাবতে হবে। ইউজিসি এ দিকটি সবিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের পারস্পরিক সহায়তায় নতুন নতুন উদ্ভাবনা, উৎপাদন, বিপনন ও বিকাশের চিন্তা থেকে এধরনের প্রকল্প উৎসাহিত করা হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের প্রকল্পে পাটখড়ি আখের ছোবড়াসহ অপ্রচলিত কৃষি উপজাত থেকে যে নতুন উন্নতমানের পার্টেক্স, পার্টিকেল বোর্ড ও বায়োফুয়েল উৎপাদন করার মতো উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা হচ্ছে তিনি তার প্রাথমিক সাফল্যে আশাবাদী বলে প্রকল্পের সমাপ্তিতে পরিপূর্ণ সাফল্য কামনা করে বলেন এটি দেশের বনসম্পদ রক্ষাসহ নানামুখি অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেশকে কেবলমাত্র কৃষি নির্ভরতার মতো একমুখি অর্থনীতি থেকে বের করে নিতে আকিজ গ্রুপ, হাশেম গ্রুপ ও গার্মেন্টস শিল্পের কর্ণধার নূরুল কাদীর খানের নাম উল্লখ করে বলেন, তাদের চেষ্টা, আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট ছিলো। তাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছেন। তারা অবশ্যই স্মরণযোগ্য। দেশে শিল্প প্রসারে এখন তাদের মতো অনেকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। তিনি দুঃখ করে বলেন কিন্তু এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাউট বাটপার সুবিধাভোগী শ্রেণি তৎপর। দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি তারা কমিটেড নয়। তাদের জন্য দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
তিনি বর্তমান সরকারের উদার, দূরদর্শী চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেন সরকার শিক্ষার গুরুত্ব, সচেতনাতা সৃষ্টিতে সফল হয়েছে, এখন আমাদের প্রয়োজন শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এক্ষেত্রে জোর দিয়েছে। প্রথম হেকেপ প্রকল্প কিছুদিন পর শেষ হলে এ বিষয়সহ উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে নানা সম্ভাবনা, প্রস্তাব পাইপলাইনে রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে এখন বহুদেশ ও সংস্থা অর্থসহায়তা, প্রকল্প সহায়তা দিতে উন্মুখ। পদ্মা সেতুতে ঘা খেয়ে বিশ্ব ব্যাংক এখন তার কৌশল পাল্টেছে। তিনি বলেন আমাদের সামনে এগোতে হবে, কেবল সামনে। এ জন্য নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা তা মোকাবেলা করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন এখনকার গ্রাজুয়েটরা ভালো করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বিকাশে সহায়তা বা পরামর্শ দানে সবসময় প্রস্তুত। তিনি বর্তমান উপাচার্যের দ্বিতীয় মেয়াদে নিযুক্তিতে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এ ক্ষেত্রে তিনি তার কর্ম ও আন্তরিকতা দিয়ে ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। ভালো কাজ করলে যে পুরস্কার আছে, প্রাপ্তি আছে এটা তার প্রমাণ। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে তিনি প্রকল্পের গবেষণা ল্যাব উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আকিজ গ্রুপের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান। উক্ত প্রকল্পের অগ্রগতি পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন ইনোভেশন সাবপ্রজেক্ট ম্যানেজার (আইএসএম) প্রফেসর ড. মোঃ ইফতেখার শামস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ এনামুল কবীর। এসময় প্রকল্পের ডেপুটি ইনোভেশন সাবপ্রজেক্ট ম্যানেজার প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম উপস্থাপনায় সহায়তা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, পরিচালক, রেজিষ্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, ইউজিসি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (উপ-সচিব) মোঃ শাহিন সিরাজ ও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে ইউজিসির চেয়ারম্যান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কার্যালয়ে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলাম তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় ট্রেজারার খান আতিয়ার রহমান, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. আশীষ কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ হোসনে আরাসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।