খুবিতে নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের প্রথম দিনেই ক্লাশ শুরু, নবাগত শিক্ষার্থীদের পদাচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস


খুবিতে নতুনভাবে প্রবর্তিত একীভূত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের ক্লাশ শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই বছরের শিক্ষাকার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এক বছরের নির্ধারিত ২টি টার্মের শিক্ষাকোর্স শেষ হবে। এখন থেকে প্রতি বছরই ১ জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু হবে এবং পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশসহ সবকিুছই হবে এই নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে। আজ ১জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের পদাচারণায় ছিলো মুখরিত। কোর্স রেজিস্ট্রেশনসহ আনুসাঙ্গিক কাজে তারা ব্যস্ত সময় কাটান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনের প্রথম দিনে তারা উৎসাহের সাথে একাডেমিক বিষয়ে শিক্ষকদের নির্দেশনা গ্রহণ করেন। প্রত্যেক ডিসিপ্লিনে নতুন শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় উৎসবমুখর ছিলো একাডেমিক ভবনগুলোও। অনেক শিক্ষার্থীর সাথে অভিভাবকরাও আসেন ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্কুল (অনুষদ), ইনিস্টিটিউট ও ডিসিপ্লিন (বিভাগ) নতুনভাবে প্রবর্তিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণের ফলে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কর্মকান্ড হিসেবে বিশেষ করে খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেয়ার সুযোগ বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২৬ বছর আগে ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালু হলে প্রথম ৫ বছর একসাথে সমন্বিত একাডেমিক কার্যক্রমের এ ধারা রক্ষা হলেও পরবর্তীতে তা বিছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রায় সারা বছরই বিভিন্ন স্কুলে বা ডিসিপ্লিনে পরীক্ষা লেগে থাকতো। ফলে ফলাফল প্রকাশ হতো বিভিন্ন সময়ে । এতে করে কিছুটা সময় বেশি লাগতো এবং ব্যয়ও বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের এক সাথে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ হতো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান গতকয়েক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকমন্ডলীর সাথে আলাপ-আলোচনা করে আসছেন এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবছর এই একীভূত (ইউনিফাইড) ক্যালেন্ডার চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন সম্ভব হয়। এ সংক্রান্ত একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ গতকাল ৩১ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এর ফলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একীভূত এ ধরনের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণের নজীর খুব কমই আছে বলে জানা যায়।