খুবিতে দি রিলেভেন্স অব এডুকেশন ইন স্টুডেন্ট লাইফ: মহাত্মা গান্ধী শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত


আজ ২ অক্টোবর বেলা ১১টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরের উদ্যোগে দি রিলেভেন্স অব এডুকেশন ইন স্টুডেন্ট লাইফ: মহাত্মা গান্ধী শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উক্ত সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি বলেন মহাত্মা গান্ধীর শিক্ষা দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর অহিংস নীতি সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলারই অভিপ্রায়। তাঁর জীবনী নিয়ে আলোচনা করলে অনেক কিছুই শেখা যায়, অনুসরণ করা যায়। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে বেশি বেশি করে মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে হলেও এ আয়োজনে প্রচুর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিশেষকরে ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনারের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ এবং মুখ্যবক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাইকমিশনের সহকারি হাইকমিশনার রাজেশ কুমার রায়না। সভাপতিত্ব করেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন। মুখ্যবক্তা ভারতীয় সহকারি হাইকমিশনার বলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী যিনি মহাত্মা গান্ধী হিসেবেই সমাধিক পরিচিত তাঁর জন্ম হয় ১৮৬৯ সালের ২অক্টোবর ভারতের গুজরাটে । সে অর্থে আজ তাঁর সার্ধশত জন্মবার্ষিকী। তিনি মহাত্মা গান্ধীর জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন এবং বিশেষ করে তাঁর শিক্ষা দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী ছিলেন অন্যতম প্রধান ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক নেতা, সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনসাধারণের অবাধ্যতা ঘোষিত হয়েছিল। এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অহিংস মতবাদ বা দর্শনের উপর এবং এটি ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকা শক্তি, সারা বিশ্বে মানুষের স্বাধীনতা এবং অধিকার পাওয়ার আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। একজন শিক্ষিত ব্রিটিশ আইনজীবী হিসেবে, গান্ধী প্রথম তাঁর অহিংস শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের মতাদর্শ প্রয়োগ করেন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিপীড়িত ভারতীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। ভারতে ফিরে আসার পরে কয়েকজন দুঃস্থ কৃষক এবং দিনমজুরকে সাথে নিয়ে বৈষম্যমূলক কর আদায় ব্যবস্থা এবং বহু বিস্তৃত বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার পর গান্ধী সমগ্র ভারতব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারী স্বাধীনতা, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, বর্ণ বৈষম্য দূরীকরণ, জাতির অর্থনৈতিক সচ্ছলতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রচার শুরু করেন। কিন্তু এর সবগুলোই ছিল স্বরাজ অর্থাৎ ভারতকে বিদেশী শাসন থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে। তিনি বলেন মহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ এবং সত্যের ব্যাপারে অটল থেকেছেন। তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেটি ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিক্ষা সম্পর্কে মহাত্মা গান্ধীর আরো বিশেষ কিছু দিক তুলে ধরে বলেন শিক্ষার ভুমিকাকে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার সংস্থাপক রূপে সীমাদ্ধ না রেখে একে নতুন সমাজ ব্যবস্থার নির্মাতা রূপে তিনি নির্দিষ্ট করতে চেয়েছিলেন। তিনি অনুমান করেছিলেন প্রচলিত ব্যবস্থায় শিক্ষিত সুবিধপ্রাপ্তদের সঙ্গে সুবিধাহীন অশিক্ষিতদের সংঘর্ষ অনিবার্য তাই শিক্ষাকে চাকুরীপ্রাপ্তির যোগ্যতা রূপে তুলে না ধরে তিনি একে অন্ত্যজ মানুষের উন্নতি ও ক্ষমতা আহরণের পথের দিশা রূপেই দেখতে চেয়েছিলেন। এই ভাবনা বাস্তবায়িত হতে পারলেই সংঘর্ষ, শোষণ, প্রতিযোগিতা, ক্ষমতা, লাভ বা লোভ নির্ভর সমাজের ধ্বংস ত্বরান্বিত হবে এবং সম্ভব হবে এক স্বপ্নের অহিংস সমাজের নির্মাণ। বস্তুত মহাত্মা গান্ধী সেই নীরব বিপ্লবকেই শিক্ষার মাধ্যমে ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।