খুবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত


khulna-university-photo-1

মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষার সাথে
সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটাতে হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা যে বাংলাদেশ চেয়েছি বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলাদেশ গড়তে, দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য শিক্ষার সাথে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন। তিনি আজ বেলা ১১টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবর্ষে ভর্তিকৃত নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
মন্ত্রী বলেন আজ আমরা আমাদের সন্তানদের কেবল জিপিএ ফাইভ পাওয়াতে ব্যস্ত। শিক্ষার্থীরা যন্ত্রের মতো পড়ছে, পরীক্ষা দিচ্ছে, ভালো ফল করছে কিন্ত মানবিক ও মানসিক দিক দিয়ে তাদের ঘাটতি থাকছে। তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের অভাব থাকছে। বোধ জাগৃতির অভাবে তাদের মধ্যে এক ধরনের অন্ধকার বাসা বাধছে, ফলে তারা বিপথগামী হচ্ছে। তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন সংস্কৃতিবান মানুষ মানবিক ও মূল্যবোধ সম্পন্ন হয়, সৃজনশীল হয়। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চমৎকার শিক্ষার পরিবেশের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের প্রতি নিরন্তর জ্ঞান সাধনার আহবান জানান। তিনি বলেন সবার মধ্যেই মেধা থাকে। মেধা হচ্ছে ইস্পাতের ফলকের মতো যা শাণিত করতে হয়। জীবনে সফল হওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের আহবান জানান। মন্ত্রী তার বক্তব্য শেষে হলি আর্টিজনে জঙ্গি হামলায় নিহত ইতালীয় নাগরিককে নিয়ে তারিক সুজার লেখা ’জন্মের আগেই আমি মৃত্যুকে করেছি আলিঙ্গন’ কবিতাটি আবৃতি করে শোনান।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথা অনুযায়ী নবাগত শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান ও পরে বক্তব্য রাখেন। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে একাত্তরের বধ্যভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিকের সাফল্য তুলে ধরে বলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মধ্যে আভিজাত্যবোধ থাকতে হবে, মূল্যবোধ থাকতে হবে, সময়ানুবর্তীতা থাকতে হবে। তিনি বলেন শিক্ষকদের অভিভাবক অতি কষ্টে লেখাপড়ার যে খরচ যোগান দেন তার যেন সুষ্ঠু ব্যবহার হয়। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীদের প্রতি মোবাইল ফোন, ফেসবুকে সময় কম দিয়ে বইয়ের প্রতি, সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি সময় দেয়ার আহবান জানান। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত করার কথা উল্লেখ করে বলেন এখানে আমি ঔপনেবিশ শক্তির মতো আসেনি বা সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য আসেনি। আমি বিগত এসময়ে একটি অবৈধ পয়সাও স্পর্শ করেনি। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করেছি। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নীতি নৈতিকতা, আদর্শ মূল্যবোধ ও ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন দেখার নানা দিক তুলে ধরেন। খুবির ট্রেজারার খান আতিয়ার রহমান বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজ বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল জববার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওরিয়েন্টেশন আয়োজক কমিটির আহবায়ক চারুকলা ইনিস্টিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. আহমেদ আহসানুজ্জামান। এছাড়া ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. অনির্বাণ মোস্তফা, সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে তানভীর রায়হান, নবীনদের পক্ষ থেকে আখন্দ মোঃ খায়রুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. সাবিহা হক, চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. আহমেদ আহসানুজ্জামান, আইন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসনাত, জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর এ কে ফজলুল হক, ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর মেহেদী হাসান মোঃ হেফজুর রহমান, বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল হক, সমাজ বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল জব্বার স্ব স্ব স্কুলের ও ইনস্টিটিউটের নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। বিকেলে উন্মুক্ত মঞ্চে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী কিছু সময় এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এর আগে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছিলে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।