খুবিতে ইউডিএল বিষয়ে এ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত


Khulna University Photo 01 (1)

বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎকর্ষ চাইলে, বিশ্বপ্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে
হলে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির বিকল্প নেই: ইউজিসি সদস্য
# উচ্চ শিক্ষায় মান্নোয়নের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে আইসিটির ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে হবে

আজ ১৯ এপ্রিল ২০১৭ খ্রি. তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০ টায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের হেকেপ প্রকল্পের উদ্যোগে ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরি ব্যবহার বিষয়ে এক এ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ আকতার হোসেন। তিনি বলেন দীর্ঘকাল পরে আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি যে উচ্চশিক্ষায় আমাদের প্রসার হয়েছে, প্রত্যাশিত পর্যায়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে কিšুÍ বিশ্বমান অর্জনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কিছুর ঘাটতি রয়েছে। এজন্য ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে হেকেপ প্রকল্প শুরু হয়। একটি ধাপ শেষে এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গত কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বেশ কিছু সংখ্যক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নানামুখি কাজ হচ্ছে। আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎকর্ষ চাই, বিশ্বপ্রতিযোগতিায় টিকে থাকতে চাই তবে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। কোয়ালিটি শিক্ষক, কোয়ালিটি ছাত্র তৈরি করতে পারে। কোয়ালিটি গ্রাজুয়েট বিশ্বপ্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে। তিনি বলেন জ্ঞান আহরণে, গবেষণায় নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে তা হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি। তথ্য-প্রযুক্তিকে আমাদের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। উচ্চ শিক্ষায় মান্নোয়নের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে আইসিটির ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে হবে। এজন্য হেকেপের একটি কম্পোনেন্ট ডিজিটাল লাইব্রেরি। এর মাধ্যমে অজ¯্র বই, জার্নাল পড়ার, তথ্য-তত্ত্ব সংগ্রহের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইউজিসি লাইব্রেরি বিডিরেইনের সাথে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ প্রায় শেষ করেছে। ইতিমধ্যে ৩৩ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৭২টি বিশ্ববিদ্যালয় এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে। তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রচেষ্টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার গুণগতমান অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। তিনি বলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারীকে ইউজিসির কেন্দ্রীয় কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেলের (কিউএসি) পরিচালক নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে একাডেমিক ইনোভেশন ফান্ড প্রকল্পের ৩য় রাউন্ডে ২টি প্রকল্প এ বিশ্ববিদ্যালয় লাভ করেছে। এটা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির হেকেপ প্রকল্পের পরিচালক অতিরিক্ত সচিব ড. গৌরাঙ্গ কুমার মোহন্ত বলেন জাতি হিসেবে আমরা যদি উন্নতির দিকে যেতে চাই তা হলে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং বিদ্যমান সুবিধা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন ডিজিটাল লাইব্রেরি অফুরন্ত এক জ্ঞানভান্ডার, সম্ভাবনার দ্বার। এখানে যতো আমরা একসেস তৈরি করতে পারবো ততোই সমৃদ্ধ হতে পারবো। তবে তিনি দুঃখ করে বলেন আমরা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণে খুব একটা নজর দেই না। চর্যাপদে ২৩ কবির সাড়ে ৪৬ টি কবিতা ছাড়া আমাদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অতীত নিদর্শন আমরা খুঁজে পাই না। অথচ চিনের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংরক্ষিত আছে। আমাদেরকে সংরক্ষণের দিকে মনোযোগী হতে হবে। বিশ্বে এমন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে ক্যাম্পাসেই ২৭টি লাইব্রেরি আছে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম অনেকটা লাইব্রেরি বিমুখ। তাদেরকে এদিকে আকর্ষণ বাড়াতে হবে। আমাদের মুদ্রিত গ্রন্থরাজি সংরক্ষণ ও পাঠ করতে হবে। সাথে সাথে ই-বুক, ই-জার্নালও ব্যবহার করতে হবে। জ্ঞান অর্জনই শেষ কথা নয়। প্রজ্ঞাবান হতে হবে। তা হলেই জাতি উন্নত হবে, দেশ উন্নত হবে, মানুষ হিসেবে আমরা উন্নত হবো। অনুষ্ঠানে ই রিসোর্স এর উপর বক্তব্য রাখেন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হাসিনা আফরোজ, বাংলাদেশ রিসার্চ এন্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন বিডিরেন এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এ. কে. এম. হাবিবুর রহমান, ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরি (ইউডিএল) সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ইউডিএল এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মুহাম্মদ জামিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ড. কাজী মোকলেছুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির উপ-পরিচালক গাজী আলাউদ্দিন আহমেদ ও উপ-গ্রন্থাগারিক কাজী ফেরদৌস। এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিবৃন্দ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন।