খুবিতে বায়োকম্পোজিটস এন্ড ন্যানোকম্পোজিটস বিষয়ে দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন; “উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে:কেসিসি মেয়র”


When:
October 30, 2018 @ 4:35 am – 5:35 am
2018-10-30T04:35:00+06:00
2018-10-30T05:35:00+06:00

আজ ২৫ অক্টোবর সকাল ১১ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনে হেকেপ সিপি-৪০৩৫ প্রকল্পের আওতায় বায়োকম্পোজিটস এন্ড ন্যানোকম্পোজিটস শীর্ষক দু’দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি বলেন দেশে এখন নানামুখী উন্নয়ন চলছে, গবেষণাও চলছে। তবে এসব যাতে পরিবেশবান্ধব হয় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ কৃষি ফসলের বর্জ্য ব্যবহার করে পার্টিকেল বোর্ডসহ যে সমস্ত জিনিষ উদ্ভাবন করেছেন যা পরিবেশ সম্মত অবশ্যই তা প্রশংসার দাবি রাখে। এটা আমাদের দেশের জন্য বড় সুখবর। তিনি বলেন এর ফলে সুন্দরবনের ওপর চাপ কমবে এবং পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়নে যা কিছু ভালো সেদিকে নজর দিচ্ছেন এবং পরিবেশর বিষয়টিতেও তাঁর নজর রয়েছে। তিন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রচেষ্টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কোনো সহযোগিতা লাগলে তা দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন এবং এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই তথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ আখতার হোসেন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্যাশার বিষয়টি তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০৯ সালে গৃহীত উচ্চশিক্ষার মান্নোয়ন প্রকল্প হেকেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন এ প্রকল্পটি এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। তবে আরও একটি প্রকল্প আগামী বছর জুলাই থেকে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন হেকেপ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনের মান অনেকাংশে পরিবর্তন এসেছে এবং গবেষণায় একটি নতুন ধারা সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ থেকে সাড়ে চারশতাধিক প্রস্তাবের মধ্যে ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ১০টি গবেষণা প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি গবেষণা সাফল্যের বিষয় সম্প্রতি জাতি তথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় গবেষণা সাফল্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া যাচ্ছে এবং এটাও সবিশেষ উল্লেখযোগ্য গবেষণা সাফল্য হিসেবে দেশ ও দেশের পরিবেশ উপকারে প্রভূত অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এ প্রকল্পের ইনোভেশন সাব প্রজেক্ট ম্যানেজারসহ তাঁর টিমকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীরা বায়োকম্পেজিটস ও ন্যানোকম্পেজিটসের মতো নতুন বিষয়ে জ্ঞানলাভ করতে পারবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান সভাপতির বক্তব্যে বলেন পাটখড়ি, আখের ছোবড়া, খড়সহ কৃষিতে যা ফেলনা সেসব বর্জ্য ব্যবহার করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যে জিনিষ উদ্ভাবন করেছেন এটা এক অনন্য সাফল্য। এটা পরিবেশ ও আর্থিক দিক দিয়ে দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আকিজ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এই উদ্ভাবিত জিনিষ ব্যবহারে এগিয়ে আসায় গবেষণার ক্ষেত্রে শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগেরও একটি অনন্য নজীর স্থাপিত হবে। তিনি এ প্রসঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সাফল্য ও অগ্রগতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গবেষণামনস্কতা বেড়েছে এবং নতুন নতুন বিষয়ে আরও অনেক গবেষণার কাজ চলছে যার অনেক ক্ষেত্রে আশানুরুপ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি কেসিসির উন্নয়নে বিভিন্ন কাজে ও গবেষণায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ও উল্লেখ করেন। তিনি কেসিসি মেয়র, ইউজিসি সদস্যসহ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপানসহ দেশি-বিদেশী গবেষক, বিজ্ঞানী যারা এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর এ কে ফজলুল হক, ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ এনামূল কবীর এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের ইনোভেশন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রফেসর ড. মোঃ ইফতেখার শামস। এসময় এ প্রকল্পের ডেপুটি ইনোভেশন সাবপ্রজেক্ট ম্যানেজার প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম এবং ইনোভেশন সাবপ্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ আসাদুজ্জামান জানান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রথম টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষক কয়েকটি নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। আগামীকাল ২৬ অক্টোবর সকাল ১০ টায় দ্বিতীয় টেকনিক্যাল সেশন এবং বিকেল ২-৩০ টায় তৃতীয় টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার ৬ জন বিজ্ঞানী ও গবেষক এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের গবেষক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ দুইশতাধিক জন অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, হেকেপ সিপি-৪০৩৫ শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পের শিরোনাম হচ্ছে ডিভেলপমেন্ট এন্ড কমার্সিয়ালাইজেশন অব এনভায়রনমেন্টাল ফ্রেন্ডলি বায়োকম্পোজিটস এন্ড বায়ো-ফুয়েল ফোরাম এগ্রিকালচারাল ওয়েস্টেজ টু মিট দ্য চ্যালেঞ্জেস অব টুয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি।